স্বামীকে ‘ভাই’বলে ডাকা: ইসলাম কী বলে?

মহব্বত কিংবা মান অভিমান যেভাবেই হোক, স্বামীকে ভাই বলে সম্বোধন করা ইসলামের বিধান অনুযায়ী উচিত নয়। কেননা হাদিস শরীফে এ বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। তদরুপভাবে স্ত্রীকে বোন বলেও বলা যাবে না। তবে এক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব অবশ্য পড়বে না।

হাদিস শরীফে এসেছে, ‘এক লোক তার স্ত্রীকে বোন বলে ডাকলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেয়ে তা অপছন্দ করেন এবং তাকে এভাবে ডাকতে নিষেধ করেছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২২০৪) সুতরাং এমন সম্বোধন থেকে বিরত থাকতে হবে।


এমনকি স্বামীর নাম ধরে ডাকাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচিত নয়। তবে এ বিষয়টি নির্ভর করে দেশীয় সংস্কৃতি ও রেওয়াজের ওপর। বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চলে সাধারণত স্বামীর নাম ধরে ডাকাকে অসম্মানজনক ও বেয়াদবি মনে করা হয়, যদিও আরবদেশে স্বামীর নাম ধরে ডাকার প্রচলন ছিল। এ ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা হলো, রেওয়াজ থাকলে এবং প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় স্বামীর নাম উচ্চারণ করা যাবে। সম্মানসূচকভাবে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যকে যেকোনো নামেই ডাকতে পারেন। কিন্তু ভাই তো আলাদা একটা সম্পর্ক। নাম নয়।
স্বামী-স্ত্রী যদি সমবয়সী হয় কিংবা বন্ধুসুলভ হয় এবং স্বামী যদি তার নাম ধরে ডাকলে মনে কষ্ট না পায়, তাহলে নাম ধরে ডাকলে কোনো সমস্যা নেই। কেননা ইসলামে এর নজির আছে। ইবরাহিম (আ.) যখন তার স্ত্রী হাজেরা এবং শিশুপুত্র ইসমাইলকে মক্কার জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে চলে যাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে তার স্ত্রী তাকে এভাবে ডাকেন—‘হে ইবরাহিম!’ পুরো ঘটনা সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে স্বামীর নাম ধরে ডাকার প্রচলন আছে। সুতরাং এ বিষয়ে সামাজিক নিয়ম-নীতি, সম্মান ও ভদ্রতার প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি। তবে নাম ধরে ডাকা গেলেও ভাই বলে ডাকার কোনো বিধান ইসলামে নেই।


প্রসঙ্গত, সম্প্রতি চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে ঘিরে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন ওমর সানী ও জায়েদ খান। সেই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই মৌসুমী তার স্বামী ওমর সানিকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেছেন।