ইসলাম দিয়েছে শ্রম ও শ্রমজীবীর সর্বোত্তম মর্যাদা

মুসলমান, পৃথিবীতে একমাত্র জাতি; যাদের দিন শুরু হয় সূর্যোদয়ের আগেই আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে। দিনের প্রথম শ্রমটা স্রষ্টার জন্য।
শ্রমের মূল্যায়ন করতে গিয়ে অবিস্মরণীয় বাণী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। নবী কারীম (ﷺ) বলেছেন, “শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও।”
আল্লাহ বলেন,
‎فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর। আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”(সূরা জুমআহ আয়াত ৯-১০)
আল্লাহ পাক নামাজের পরেই জীবিকার অন্বেষনে বের হয়ে যেতে বলেছেন।
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তিকে পছন্দ করেন, যে কোন কাজ করে এবং তাতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করে।”
বোখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফে এসেছে, হযরত মিকদাম (রা:) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ নিজের রোজগার করা রিজিকের চেয়ে উত্তম কোন রিজিক ভক্ষন করতে পারেনি”।
নবী করীম (ﷺ) আরো বলেন,
‎وقال النبي صلى اللّه عليه وسلم: “إن اللّه يحب المؤمن المحترف”
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পেশাজীবি মুমিনকে ভালোবাসেন।”
একজন সাহাবী হুজুর নবীয়ে পাক (ﷺ) কে প্রশ্ন করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার দাসী ভুল করলে আমি তাকে কতবার ক্ষমা করব?” নবীয়ে পাক (ﷺ) জবাব দিলেন, “সে যদি সত্তুরবার ভুল করে তবে সত্তুরবারই তাকে ক্ষমা করে দিবে।” অর্থ্যাৎ তারপরও তুমি কোন অবস্থাতেই তার সাথে রূঢ় আচরণ করবে না বা গায়ে হাত উঠাবে না।
ইসলামের শিক্ষা এই যে আমরা নিজে যা খাবো, আমাদের অধীনদেরকেও তাই খাওয়াব, নিজে যা পড়ব, তাদেরকেও তাই পড়াব। এটাই প্রিয় নবীজীর (ﷺ) ফরমান।
প্রিয় নবীজী (ﷺ) কোনো সময়, কোনো খাদেম বা খাদেমার সাথে রূঢ়ভাষী হননি। নবীজীর (ﷺ) দশ বছর খেদমতকারী খাদেম হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি দশ বছর নবীজীর (ﷺ) খেদমত করেছি কিন্তু তিনি আমাকে কোনদিন বলেননি তুমি এটা কেন করেছ? তুমি এটা কেন করনি?” যে দয়া প্রদর্শন করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না। (আল হাদিস)।
নবীজী (ﷺ) অত্যন্ত বিনয়ের সা‌থে শ্রমিকের হাতে চুমু খেতেন। তাবুকের যুদ্ধ শেষে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যখন মদীনায় ফিরে আসেন, তখন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত সা’দ আনসারী তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারী সাহাবীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে তার হাতের তালুতে কঠোর পরিশ্রমের ফলে সৃষ্ট খসখসে দাগ অনুভব করেন। তিনি বুঝতে পারেন, অধিক পরিশ্রমের ফলে সা’দ আনসারীর হাতের তালু ফেটে গি‌য়ে‌ছে। তিনি আনসারীর হাতে চুমু খেলেন।
হালাল উপার্জনের ব্যাপারে প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এঁর পাঁচটি হাদিস :
(১) “সবচেয়ে পবিত্র আহার তা, যা তুমি নিজের উপার্জন হতে আহার কর।”
_তিরমিযী, খন্ড-৩, পৃষ্ঠা-৭৬, হাদীস-১৩৬৩।
(২) “নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা পেশাজীবি মুসলমানদের ভালবাসেন।” -মুজামুল আওসাত, খন্ড-৬, পৃষ্ঠা-৩৭২, হাদীস-৮৯৩৪।
(৩) “পবিত্র রিযিক উপার্জনকারীর জন্য জান্নাত রয়েছে।” _মুজামুল আওসাত, হাদীস-৪৬১৬।
(৪) “যেই ব্যক্তির পরিশ্রম করে ক্লান্ত হয়ে সন্ধ্যা আসে, তার জন্য সেই সন্ধ্যা মাগফিরাতের সন্ধ্যা হয়।” _মুজামুল আওসাত, খন্ড-৫, পৃষ্ঠা-৩৩৭।
(৫) এমন কিছু গুনাহ রয়েছে, যেগুলোর কাফফারা নামাজও হতে পারে না, রোযাও হতে পারে না, হজ্বও না, ওমরাও না। সেগুলোর কাফফারা হল সেই চিন্তাগ্রস্থ অবস্থা, যা মানুষের কাছে হালাল রুজির সন্ধানের ফলে চলে আসে।” _মুজামুল আওসাত, খন্ড-১, পৃষ্ঠা-৪২, হাদীস-১০২।