আল কায়েদা নেতা জাওয়াহিরি মার্কিন হামলায় নিহত

আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত আল-কায়েদা প্রধান
আল কায়েদা নেতা জাওয়াহিরি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সোমবার ঘোষণা করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মাস্টারমাইন্ড আল-কায়েদা প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে কাবুলে একটি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে।

একটি টেলিভিশন ভাষণে বাইডেন বলেছেন, তিনি সপ্তাহান্তে আফগানিস্তনের রাজধানীতে জাওয়াহিরিকে লক্ষ্য করে নির্ভুল স্ট্রাইকের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন।‘ন্যায়বিচার প্রদান করা হয়েছে এবং এই সন্ত্রাসী নেতা আর নেই’ এ কথা উল্লেখ করে বাইডেন আশা প্রকাশ করেন, জাওয়াহিরির মৃত্যু ৯/১১-এর হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিহত ৩,০০০ মানুষের পরিবারের ন্যায় বিচার পাওয়ার দাবি পূরণ হবে।

একজন সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, জাওয়াহিরি কাবুলের একটি বাড়ীর বারান্দায় ছিলেন যখন তাকে দু’টি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। গত ৩১ জুলাই সূর্যোদয়ের এক ঘন্টা পর এবং আফগানিস্তানের মাটিতে কোনও মার্কিন বুট ছিল না। বাইডেন প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, আফগানিস্তানের মাটিতে কোন মার্কিন সেনার উপস্থিতি ছাড়াই কাবুলে একটি বাড়ির বেলকুনিতে ৩১ জুলাই ভোরের সূর্য ওঠার এক ঘন্টা পর জাওয়াহিরিকে লক্ষ্য করে দু’টি হেলফায়ার মিসাইল হামলা চালানো হয়।

কর্মকর্তারা বলেন, বাইডেন কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ্য হয়ে ওঠার পর ২৫ জুলাই এই হামলার অনুমতি দেন। বাইডেন বলেছেন, অভিযানে কোনো বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মার্কিন কর্মকর্তা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে জাওয়াহিরির উপস্থিতিকে ২০২০ সালে দোহায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তালেবানের স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন যা আফগানিস্তান থেকে মার্কিন প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত করেছিল।

৩১শে আগস্ট, ২০২১-এ আমেরিকান বাহিনী দেশ থেকে প্রত্যাহার করার পর এটি ছিল আফগানিস্তানে আল-কায়েদার লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিচিত ‘ওভার-দ্য-হরাইজন স্ট্রাইক।’ জাওয়াহিরি একজন মিশরীয় শল্যচিকিৎসক যিনি আল কায়েদার সঙ্গে জড়িত হওয়ার আগে কায়রোর একটি স্বচ্ছল পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন। ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর থেকে তিনি ২০ বছর ধরে পলাতক ছিলেন৷

২০১১ সালে পাকিস্তানে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর তিনি আল-কায়েদার দায়িত্ব নেন এবং তাকে ধরিয়ে দিতে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।

আরো পড়ুন: জো বাইডেন বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়াতে আত্মবিশ্বাসী