শত্রুতা ভুলে বন্ধুত্বের পথে সৌদি-ইরান

শত্রুতা ভুলে বন্ধুত্বের পথে সৌদি-ইরান
অনলাইন ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যের দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরানের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক চলে আসছে দীর্ঘদিন। এখন দুপক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আলোচনায় বসে দেশ দুটি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর, বৈঠকে ইরানের পক্ষে অংশ নেন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা। অন্যদিকে সৌদি আরবের হয়ে উপস্থিত ছিলেন দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান খালিদ বিন আলী আম হুমাইদান। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রধান বাধাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন তেহরান ও রিয়াদের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে ইরান ও সৌদি আরবের পাশাপাশি ইরাক ও ওমানের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না এলেও অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুলল ইরান। সোমবার (২৫ এপ্রিল) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ খাতেবজাদেহ বলেন, দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে বাগদাদের বৈঠক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। শিগগিরই দেশ দুটির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সৈয়দ খাতেবজাদেহ বলেন, আলোচনা ছিল দূরদর্শী এবং ইতিবাচক। পূর্বপরিকল্পিত কাঠামো সম্পূর্ণরূপে আলোচনা করা হয়েছে। এতে শীর্ষ রাজনৈতিক পর্যায়ে দ্রুত বৈঠকের অগ্রগতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইউক্রেনের খারকিভ শহরে আবার হামলা

২০১৬ সালে একদিনে ৮১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি আরব। যাদের বেশির ভাগই ছিল শিয়া মুসলিম। সেই দিন শিয়া সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা শেখ নিমর আল নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতিবাদে তেহরানে সৌদি দূতাবাসে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। এ ঘটনার জেরে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতি টানে সৌদি আরব।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ইরাকে আলোচনায় বসছে ইরান ও সৌদি আরব। গত ১৩ মার্চ কোনো কারণ ছাড়াই আলোচনা স্থগিত করে ইরান। অবশেষে নতুন করে আবারও দেশ দুটির মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে আশার আলো দেখছেন বিশ্লেষকরা।