শিল্পী জাহেদ রবিন “জরায়ুতে মাতৃত্ব” চিত্রকর্মটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড়

শব্দের এবং বাক্যের প্রয়োগ না করে শুধুমাত্র একটি চিত্রকর্ম উপলব্ধির কতটা গভীরে যেতে পারে, সেটির অন্যতম একটি উদাহরণ এই চিত্রকর্মটি।

জরায়ুতে মাতৃত্ব” চিত্রকর্মটি লোকদের নতুন করে ইতিবাচক ভাবে ভাবতে শিখিয়েছে, শেখাচ্ছে। এটি শিল্পী জাহেদ রবিন এর জনপ্রিয় একটি চিত্রকর্ম।

চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে গর্ভে সন্তানের দেহের বৃদ্ধি হচ্ছে মায়ের মুখের আহার থেকে, তিলেতিলে বেড়ে উঠছে, এবং অবশেষে একদিন এটি হবে পৃথিবীর পথ।

অথচ, পৃথিবীতে আসার পরেই লোকেরা শুধুমাত্র কামনার চোখেই দেখতে আরম্ভ করেন এবং শেখেন। এর কৃতিত্ব, ঐতিহ্য, প্রয়াস, অবদান, সম্মান ইত্যাদি ভুলে যান।

চিত্রকর্মটি লোকেদের জরায়ুর প্রতি কামনার আবডালে মাতৃত্বের সেই অবদান, ত্যাগ, কৃতিত্বও প্রয়াসের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে এবং শিল্পীর উন্নত চিন্তাভাবনায় ফুটে উঠেছে।

শিল্পী প্রথমবার যখন এই ছবিটি এঁকেছিলেন, তখন আলোচনার পাশাপাশি বেশ কিছু সমালোচনাও হয়েছিলো। মানুষ এই চিত্রকর্মটির সৌন্দর্য, মর্মার্থ বের করতে পারেননি, খুঁজেছেন শুধুমাত্র অসুস্থ নোংরামি। তবে, এতদিন পরে হলেও অবশেষে চিত্রকর্মটি প্রাপ্য অর্জন পেয়েছে, লোকেরা তাদের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছেন, নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করেছে।

লোকেরা এখন ভাবতে শিখেছেন জরায়ুর সাথে মাতৃত্বের গভীর এবং গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা, যে সম্পর্ক যথেষ্ট সম্মানের। সমাজ আমাদের শুধু নেতিবাচক বিষয় গুলো শিখিয়েছে, অথচ ইতিবাচক হতে শেখায়নি।

ছবিটি শেখাচ্ছে কিভাবে একটি ইতিবাচক ব্যাপারের ভেতর আমরা হাজার বছর ধরে শুধু নেতিবাচক মনোভাব ই চর্চা করেছি। ফলে কখনো হয়েছি হিংস্র, কখনো হয়েছি ধর্ষক আর কখনো প্রতারক।

জরায়ুর ভেতর আমরা নেতিবাচক ব্যাপার খুঁজি, স্বার্থ খুঁজি, নগ্নতা খুঁজি, যৌনতা লালন করি, হিংস্রতা ধারন করি। অথচ, জরায়ুতে রয়েছে মাতৃত্ব, জরায়ু মাতৃত্বের সম্মান ধারণ এবং বহন করে। এই মাতৃত্ব আমাদের ছোটবেলা থেকে আরম্ভ করে জীবনের শেষমুহুর্ত পর্যন্ত কৃতিত্ব রাখে।

একজন মানুষ এই সম্মানটি অনুধাবনের সক্ষমতা অর্জন করলে, তিনি এরপরে কখনো হিংস্র ধর্ষক হবেন না। জরায়ুতে শুধুমাত্র যৌনতা নেই বরং আছে আমাদের জম্ম, পৃথিবীর পথ, মানবসভ্যতার প্রয়াস, আমাদের জীবন, বেড়ে ওঠা সহ আরো অনেক অনেক ব্যাপার।

এই চিত্রকর্মে লোকেরা সেটি প্রথমে খুঁজে না পেলেও এবং বেশ সমালোচনা করলেও যখন ছবিটি ধিরেধিরে সবার ভেতরে ছড়িয়ে পরলো, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এটির খবর এলো, এবং গ্যালারিতে যথার্থ সম্মান অর্জন করলো তখন সমাজের গতানুগতিক নিয়ম ভেঙে লোকেরা দ্বিতীয়বারের মতন করে ভাবার সুযোগ পেলো এবং ইতিবাচক হতে আরম্ভ করলো।

চিত্রকর্মটি ইকো গ্যালারি কর্তৃক প্রদর্শনী ও নিলামের আয়োজন করা হয় এবং এই ছবিটি ৮,০০০ দিরহামে বিক্রি হয় যার বাংলাদেশী মূল্য প্রায় ১৮৪,৮০০ টাকা৷

একটি ইতিবাচক অনুধাবন, উপলব্ধি নতুন একটি সুন্দর পৃথিবীর সম্ভাবনা দেখায় যেখানের লোকেরা হবেন ইতিবাচক মনেধরার। পৃথিবী হবে সুন্দর, সবার। সবাই সবার প্রাপ্যটা পাবেন। পৃথিবী সুন্দর হোক, লোকেরা ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করুক।

গতানুগতিক ধারার লোকেরা জরায়ুতে শুধুমাত্র যৌনতা, হিংস্রতা এবং নগ্নতা খুঁজে পান, অথচ একজন শিল্পী এর ভেতরেই পরম যত্নে লালন এবং ধারণ করেন মাতৃত্ব। এটি উন্নত চিন্তাধারার এবং কল্পনাশক্তির একটি শক্তপোক্ত উদাহরণ ও বটে…।

তন্ময় জাবের