স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বললেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ পৌরসভায় গত ১৩ অক্টোবর রাতে পুলিশ- জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহত ৪ জনের পরিবারের সাথে দেখা করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণভাবে বললেন আমি সমস্ত মন্দিরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। আসলে তো কেউ তার কথা শোনে নাই। তার কথা শুনে যদি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতো তাহলে তো আজকে এই ছেলেগুলো মারা যেত না।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমি উপদেশ দেই যদিও দোষটা আপনার না তারপরও আপনার পদত্যাগ করা উচিৎ। আপনার পদত্যাগ করা উচিৎ এই কারণে যে আপনার কথা আপনার বাহিনী শোনেন নাই। আপনাকে মিস গাইড করেছেন। আর পদত্যাগ করতে না পারলে যে চারজন মারা গেছে তাদের বাড়িতে যান। প্রত্যেক ইমাম সাহেবদের প্রত্যেক আজানের পূর্বে ‘হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই’ বলতে হুকুম করেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আজকে যদি হৃদয়ের মায়ের কাছে গিয়ে আমাদের ব্যর্থতার জন্য সরাসরি মাফ চাইতে পারতাম তাহলে ভালো লাগতো। এই ব্যর্থতার জন্য আমার মুক্তিযোদ্ধা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও ক্ষমা চাইছি। এই দেশে যে কয়জন ভালো মন্ত্রী আছে আমি মনে করি তাদের মধ্যে আসাদুজ্জামান খান কামাল একজন। এত বড় একজন ভালো মানুষকে তার গোয়েন্দা বাহিনী বোকা বানিয়ে দিয়েছে। কারণ মৌলভী সাহেবরা যখন নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিল তখন তার সাথে দেখা করতে যাওয়া মৌলভী সাহেবদের সাথে একাধিকবার দেখা করেছন। এটা ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী পছন্দ করে নাই। আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী তো ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর পদস্থ কর্মচারী।

তিনি বলেন, আমি হাজীগঞ্জের পুলিশ ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দিতে চাই। আপনারা একত্রিত হয়ে পরিস্থিতিটাকে মোকাবেলা করেছেন। কিছু ধর্মান্ধ ব্যক্তি কিছু যুবককে বিপথে নিয়েছেন। সেটা আপনারা ঠেকাবার চেষ্টা করেছেন। আমি দুটো মন্দির দেখেছি, এদের বাড়িঘর দেখেছি এবং আপনাদের কথা শুনেছি। আপনারা দেশপ্রেমিক সাংবাদিকের কাজ করেছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে আপনারা নিরপেক্ষভাবে কথা বলেছেন। আপনারা কোন কল্পকাহিনী সৃষ্টি করেন নাই।

এ সময় ডা. চৌধুরী বলেন, আজকে আমাদের সাহস নিয়ে কথা বলতে হবে। যেসকল মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কোনো দেরি না, কালকে থেকেই দেয়া শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ত আমরা মসজিদ-মন্দির পুলিশ পাহারা দিয়ে রাখব না, অন্তর দিয়ে পাহারা দিয়ে রাখব। আজকে বিষয়গুলো সবার দেখা উচিৎ এবং সবাই মিলে আমার অপর ভাই-বোনদের রক্ষা করব।

হাজীগঞ্জে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুন্দরপুর বাগডাঙা এলাকার সামছুর ছেলে বাবলু (৩৫), হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়ার শুকু কমিশনার বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (১৮) ও একই ওয়ার্ডের সেকান্দর বেপারী বাড়ীর মো: ফজলুর ছেলে হৃদয় (১৪)। এ ছাড়াও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে হাজীগঞ্জ পৌরসভার রান্ধুনীমুড়ার বাচ্চুর ছেলে শামীম (১৯) মারা গেছেন।

রোববার দুপুরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নিহতদের পরিবারের সাথে দেখা করতে যান। যাওয়ার পথে গাউছিয়া হাইওয়ে এলাকার হাজীগঞ্জ বাজারে একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে ওই দিন কি ঘটেছিল সেই ঘটনা সম্পর্কে শোনেন। পরে তিনি কয়েকটি মন্দির পরিদর্শন করেন।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ৬৯‘ শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা. নুরুজ্জামান, হাবিবুর রহমান বিজু, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, সাবেক কাউন্সিলর মাহফুজা খানম রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রচার ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসিবুদ্দিন হোসেন, রাজনৈতিক সমন্বয়ক ফরিদুল হক, সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ভাসানী অনুসারী পরিষদের ছাত্র ফ্রন্টের নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটসহ প্রমুখ।