শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার আওয়ার্ড ২০২০ এর জাতীয় পর্যায়ের সমাপনী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মহামারী করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বিশ্বের যুবারা আর্তমানবতার সেবায় যে অবদান রেখেছেন তারি স্বীকৃতি দিতেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-এর উদ্যোগে ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল-২০২০-এর আয়োজন করা হয়েছে। যুবাদের ১০টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে একক এবং দলীয় ভাবে সর্বমোট ১০০ জনকে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হবে।
দেশে ১ম বারের মতো এই আয়োজনটি করায় এর নামকরণ করা হয় ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২০’। গতকাল শনিবার(২৬জুন) দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শেখ কামাল অডিটোরিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার আওয়ার্ড ২০২০ এর জাতীয় পর্যায়ের সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার ডাঃ শিরীন শারমিন চৌধুরী, এমপি প্রধান অতিথি হিসাবে এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে যোগদান করেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এ কে আবদুল মোমেন(এমপি) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ আখতার হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোঃ আজাহারুল ইসলাম খান বিশেষ অতিথি হিসাবে যোগ দেন।এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব নাহিম রাজ্জাক এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ রাশীদুল হাসান, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের স্পিকার ডঃ শিরিন শারমিন চৌধুরী (এমপি) ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “করোনা মোকাবেলায় আমাদের তরুনদের মহতী উদ্যোগ ও সাহসী প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়ায় এ আয়োজনকে আমি স্বাগত জানাই। কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তরুণদের এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতে দেশের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে তাদের বিশেষ উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগাবে। ” মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিশ্বজুড়ে তরুণদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরাই ছিলো করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রথম দিককার সৈনিক। তারা ত্রানসামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে ফসল কেটেছে, জরুরী মেডিকেল সেবা প্রদানে সহযোগিতা করেছে। তাই তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি, পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে এরকম একটি উদ্যোগের জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছি।“ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান করোনা সংকট মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি আমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বের যুবারা আর্তমানবতার সেবায় যে অবদান রেখেছেন তার স্বীকৃতি দিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-এর উদ্যোগে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর সহযোগিতায় ‘ঢাকা ওআইসি ইয়্যুথ ক্যাপিটাল ২০২০’-এর অধীনে ১ম বারের মত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘শেখ হাসিনা ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়। যার মাধ্যমে আমরা তরুণদের ১০টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে একক ও দলীয়ভাবে মোট ১০০জনকে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করবো। তিনি আরও জানান,যোগ্য প্রার্থীরা যেন স্বীকৃতি পায় তা নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে ১৬ সদস্যের একটি জাতীয় বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় বাছাই কমিটি বাছাই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ প্রার্থীর মধ্য থেকে ১০০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করবে, যেই ১০০ জনের মধ্য থেকে যোগ্যতম ১০ প্রার্থীকে চুড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এই চূড়ান্ত ১০জন বিজয়ী শেখ হাসিনা ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০-এর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরাসরি অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবেন এবং তারা ঢাকা ওআইসি ইয়্যুথ ক্যাপিটাল ২০২০-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তাদের বিজয়ী ট্রফি গ্রহণ করবেন।” অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: আক্তার হোসেন।
উল্লেখ্য যে, করোনাকালীন সংকটময় মুহূর্তে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ এবং বৈশ্বিক যুবাদের অনন্য মানবিক অবদানের স্বীকৃতি দিতে ‘ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০’-এর অধীনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ চালু করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।