ডেঙ্গু হয়ে উঠতে পারে মরার উপর খরার ঘা; এডিস মশার প্রজনন মৌসুম এপ্রিল-মে

বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সীমিতসংখ্যক থাকলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এপ্রিল-মে মাস থেকে এডিস মশার প্রজনন মৌসুম শুরু হয়। ফলে এ সময়ে মশক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশে করোনাভাইরাস এর মারাত্মক সংক্রমণ থাকায় অধিকাংশ হাসপাতালে চিকিৎসকরা করোনাভাইরাসের রোগী সামলাতে ব্যস্ত। করোনাভাইরাসের উপসর্গ ও ডেঙ্গু রোগের উপসর্গ একই ধরনের হওয়ায় চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে জ্বরের রোগী দেখলেই চিকিৎসকরা করোনা পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি ও চিকিৎসা করতে অপারগতা জানাচ্ছেন। ফলে এ সময়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লে করোনা পরীক্ষায় কালক্ষেপণের কারণে চিকিৎসা বিলম্বিত হতে পারে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি মশার উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকার লোকজনের অভিযোগ একদিকে করোনার ভয় অন্যদিকে মশার উপদ্রবে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের মশক নিধনে তাদের কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। জনসচেতনতায় প্রচার-প্রচারণাও নেই। সবাই এখন করোনা নিয়ে ব্যস্ত।

রোগতত্ত্ব ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা দুরূহ হয়ে পড়বে। মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করাসহ জনসচেতনতা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মাত্র একজন রোগী ভর্তি হয়। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দুইজন। আশার খবর হলো, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ইতোমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ২৯৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।