ছুটি বাড়তে পারে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত; নিষিদ্ধ বর্ষবরণ অনুষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘোষিত ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার গণভবন থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের হয়তো ছুটি ৯ তারিখ (এপ্রিল) পর্যন্ত বাড়াতে লাগতে পারে। ‘আমরা ছুটি দিয়েছিলাম, তাই অনেকে গ্রামে চলে গেছেন। সেখানে যেন এ রোগের প্রার্দুভাব দেখা না দেয় সে সময়টা হিসেব করে- আমরা ১০/১২ দিনের ছুটি দিয়েছিলাম। এটা ১৪ দিন করতে হবে। … ৯ তারিখ পর্যন্ত হতে পারে। ছুটিটা সীমিত আকারে আমাদের একটু বাড়াতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মোকাবিলায় দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাটা জরুরি। আমাদের দেশটা ছোট কিন্তু জনসংখ্যা বিশাল। এরপরও আমরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। সেজন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ে রয়েছে।

সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কেননা নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার থাবা রয়ে গেছে। আমরা বিশ্ব থেকে দূরে নই। আমাদের আরও সচেতন থাকা দরকার। আমরা আমাদের দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে করোনা না ছড়ায় সেজন্য সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।

করোনা উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো লুকোচুরি করার সুযোগ নেই। লুকোচুরি করলে নিজের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়া হবে। জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। জনকল্যাণে যেসব কাজ করা হবে তা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

জনসমাগম এড়াতে আসন্ন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান না করার কথাও বলেন শেখ হাসিনা। জনসমাগম করে নববর্ষ উদযাপন নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনসমাগম করে এই অনুষ্ঠান সারা বাংলাদেশে বন্ধ রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নববর্ষের অনুষ্ঠান আপনারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে করতে পারেন। সেখানে সবাই যত খুশি উৎসব করুন। জনসমাগম করে এই অনুষ্ঠান সারা বাংলাদেশে বন্ধ রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কষ্ট বেশি লাগছে এটা ঠিক,  মুজিববর্ষ অনুষ্ঠান আমরা শুরু করেছিলাম অনেক বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে। কিন্তু সেটাও আজকে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এটা বন্ধ রাখছি।’